৪৫ তম মহান বিজয় দিবসে চট্টগ্রাম বনপা ‘র শ্রদ্ধাঞ্জলী ও আলোচনা সভা

বিজয় মানে মুক্তি, মুক্তির স্বাদ, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন যেন কোন বাধা নেই, নেই কারো রক্তুচক্ষুর ভয়, চলার পথে নির্ভিক, যার যার স্বধিকার আদায়ে বাধাহীন। ঠিক এমনই একটি দেশ আমাদের বাংলাদেশ, যে দেশ নিয়ে আজ আমরা গর্বিত। যে দেশে জন্মেছি বলে আজ আমরা নিজেকে ধন্য মনে করি। এই অধিকার সহজে আসেনি, এসেছে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে, অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে অগণিত আত্নত্যাগের বিনিময়ে, যাদের ত্যাগের ঋণ কখনো পরিশোধযোগ্য নয়, শুধুমাত্র তাদের ত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানো ছাড়া।

গত ১৫/১২/২০১৬ ইংরেজী রাত ১০ ঘটিকার সময় মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা), চট্টগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত সাধারণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, মহান স্বাধিনতা যুদ্ধে যাদের আত্নত্যাগ আছে, যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধিন দেশের নাগরিক, স্বাধিনতা ভোগ করি, নিজেকে একটি স্বাধিন দেশের নাগরিক হিসাবে গর্ভবোধ করি,  সেই বীর মুক্তি যুদ্ধাদের প্রতি তখনই সম্মান জানানো হবে, যখন তাঁদের স্বপ্নকে আমরা বাস্তবে রূপদান করতে পারি। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এদেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার কাজ করে গেলে।

বক্তরা আরো বলেন, স্বাধীনতা শব্দটি যখন উচ্চারণ করিনা কেন, একটি নাম বার বার সামনে চলে আসে, একজন মাহান মানুষের নিঃস্বার্থ আত্নত্যাগের কথা, যার আপোষহীনতার কথা। অবশ্যই নিঃস্বার্থ বললে ভুল হবে, স্বার্থ অবশ্যই ছিল, স্বার্থ ছিল এদেশকে শত্রমুক্ত করা, এই দেশকে শোষণমুক্ত করা, এদেশেকে মানুষের অধিকার আদায় করা।

সেই মহান মানুষ আর কেউ নয়, তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বাধীন সর্ববৌভ আজকের বাংলাদেশ, আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। তাই স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধু এই দুটি শব্দ একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি কল্পনাও করা যায়না।

তাই আমরা যারা গণমাধ্যম কর্মী আমাদের উচিত, শুধু উচিত বললে ভুল হবে, বলতে হবে গুরু দায়িত্ব প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম দায়িত্ব নিয়ে স্বাধিন বাংলার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে অবগত করতে হবে। বীর মুক্তিযুদ্ধাদের অবদান এবং সাথে সাথে সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্ট্রা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ইতিহাস বার বার সামনে নিয়ে আসা আমাদের অত্যআবশ্যকীয় দ্বায়িত্ব।

দীর্ঘ ২ ঘন্টা ব্যাপি আলোচনা সভায় স্বাধিনতা যুদ্ধের বিভিন্ন দিক উঠে আসে বক্তাদের তথ্যভিত্তিক আলোচনায়।

সভার শুরুতে চট্টগ্রাম সময়ের সম্পাদক ও প্রকাশক এম.ডি.এইচ রাজু বনপা চট্টগ্রামের নতুন সদস্য হিসাবে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম.কে মোমিনের হাতে ফুল দিয়ে সংগঠনে যোগদান করেন।

১১.৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠানের ২য় কার্যক্রম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার উদ্দেশ্য বনপা চট্টগ্রামের সকল সদস্য  সাধারণ সম্পাদক এম.কে. মোমিনের নেতৃত্বে যাত্রা করেন। এবং ১৬/১২/২০১৬ রাত ১২.৪৫ মিনিট চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বনপা চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে বীর শহীদদের ফুল দিয়ে প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন জনাব এম.কে মোমিন।

সভায় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, বনপা চট্টগ্রামের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ফরহাদ আমিন ফয়সল, অর্থ সম্পাদক মীর মেজবাহ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকশনা সম্পাদক শামশুল করিম লাভলু, তথ্য ও প্রযুতিক্ত সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম, সদস্য এম.ডি এইচ রাজু, মসিউর রহমান, রায়হান উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন, ফাহিম, নেওয়াজ, শাহাদাত, রিপন, আবির, সাফওয়ানা, রাশেদুল আজীজ, বাবুল মিয়া, মিজানুর রহমান, আলাউদ্দীন খোকন, রেজওয়ানা হারুন, নাফিস আহমেদ, রাফসান জানী, মোঃ জায়েদ, মোঃমোস্তফা, দেলাওয়ার হোসেন, জাহিদ কায়সার, সাইফুল ইসলাম, মোঃ জাহেদ প্রমুখ।

দেশের বাইরে থাকা ও অনিবার্য কারণ বশত বনপার সম্মানীত উপদেষ্ঠাবৃন্দ ও অন্যন্য সদস্য যারা উপস্থিত হতে পারেনি তারা টেলি কনফারেন্স এ সভায় যোগদান করেন এবং সভার সাথে একত্বতা ঘোষনা করেন।

ডিসেম্বর’২০১৬ শেষ সপ্তাহে বছরের শেষ সাংগঠনিক সভা হওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং  ১৭, ১৮ এবং ২৫ ডিসেম্ব‘১৬ অনুষ্ঠাব্য প্রোগাম সমূহ সফলভাবে সম্পন্ন করার ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত  ও দায়িত্ব বন্টন করা হয়।