সরকারি কর্মচারীদের এসিআর থাকছে না

87780_f3

 

সরকারি কর্মকর্তাদের বহুল আলোচিত বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) থাকছে না। এর পরিবর্তে আসছে পারফরমেন্স বেইজড ইভালুয়েশন সিস্টেম বা কর্মকৃতিভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি। সংক্ষেপে পিবিইএস। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি দক্ষ, গণমুখী, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডির কাছে অর্থায়নের জন্য এ নিয়ে প্রজেক্ট দেয়া হয়। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই সরকারের অর্থায়নে নিজস্ব কর্মসূচি আকারে পিবিইএস চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আরিফুল হক গত ১৮ই জুন বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে দেয়া হয়। এতে জানানো হয়, পিবিইএস পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে ২০০৮ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ নিয়ে ওই বছরের ১১, ১৮, ২৫শে জুন ও ১৬ই জুলাই ৪টি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৯ সালের ৩রা মে ম্যাট-২ প্রকল্পের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এসিআরের পরিবর্তে পিবিইএস চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীকালে পিবিইএসের ফরমেটটিকে আরও সমৃদ্ধ ও উপযোগী করে মন্ত্রণালয়ের সকল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে পূরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। একইসঙ্গে ২০০৯ সালের ৩০শে আগস্ট থেকে ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সকল প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে বিষয়টির ওপর ধারণা ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বিষয়টি নতুন হওয়ায় এর ফরম নিয়ে প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি থেকে যায়। সে পরিপ্রেক্ষিতে ম্যাট-২ প্রকল্পের ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডিরেক্টর-এর নির্দেশনায় ২০০৯ সালের ১৯শে নভেম্বর পিবিইএস-এর বিভিন্ন দিক বাস্তবায়ন নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিএফআইডি টিমের বৈঠক হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএফআইডি থেকে একটি ড্রাফট অ্যানুয়াল পিবিইএস ফরমেট পাঠানো হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ আলোচনা, পর্যালোচনার পর পিবিইএস-এর একটি খসড়া ফরমেট ও ফরম পূরণ করতে একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়। এর ২ বছর পর ২০১১ সালের ২৪শে মার্চ ফরমেটটি পুরোপুরিভাবে মন্ত্রণালয়ে চালু করার আগে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে পাঠাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠনো হয়। পরে ২০১১ সালের ১লা জুন সচিব কমিটির বৈঠকে পিবিইএস পদ্ধতিকে পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব প্রশাসন (সংস্কার ও বাস্তবায়ন)-এর নেতৃত্বে ৮ সদস্যর একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ৩০শে এপ্রিল ৭টি সুপারিশ এবং বাস্তবায়ন সাপেক্ষে পিবিইএস অনুমোদনের সুপারিশ করে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে- নীতিমালা/নির্দেশিকা প্রণয়ন, প্রত্যেক কর্মকর্তার কর্মপরিধি সুনির্দিষ্টকরণ, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে পিবিইএস ডাটা বেইজ তৈরি, খাপ খাওয়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন, পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুকরণ, প্রতিক্রিয়া প্রমোশনের জন্য ওয়ার্কশপ বা সেমিনার আয়োজন ও এপিআরএ প্রয়োজনীয় সংশোধন। ২০১২ সালের ৮ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব সুপারিশের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেন। পরে ৭ সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০১২ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসময় অর্থ বরাদ্দের জন্য ম্যাট-২ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়। এরই মধ্যে ২০১৩ সালে ম্যাট প্রকল্প শেষ হয়। পরে অব্যয়িত টাকা দিয়ে ডিএফআইডির কাছে একটি প্রজেক্ট দেয়া হয়। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। জনপ্রশাসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে. বর্তমানে সরকারের অর্থায়নে নিজস্ব কর্মসূচি আকারে পিবিইএস চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি

সিনিয়র সহকারী সচিব আরিফুল হক স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি ২০১৪-১৫ এর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছরের ৮ই মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষরিত হয়। এর ভিত্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে মন্ত্রণালয়সমূহের কর্মকৃতি মূল্যায়নের জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু সাধারণ মানদণ্ড ও সেগুলোর অনুকূলে নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করা হয়। মন্ত্রণালয় বা বিভাগসমূহ তাদের ভিশন. মিশন ও কৌশলগত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মকৃতি নির্ধারণ করবে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে তাদের কর্মকৃতি মূল্যায়িত হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাক্ষরিত এপিএ অনুযায়ী কর্মসম্পাদনের জন্য সব অনুবিভাগ প্রধানকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।