শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার এবং রাজনীতি নিষিদ্ধ হচ্ছে। সোমবার দুপুরে চসিকের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে শিক্ষা নীতিমালা সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা  হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চসিক শিক্ষা নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোন শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তা জব্দ করা হবে। শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে অভিভাবকরা চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। শিক্ষার্থীরাও চাইলে একই উপায়ে অভিভাবকদের সাথে কথা বলতে পারবে।

সিটি মেয়র বলেন, প্রতিটি বিষয়েরই নেতিবাচক ও ইতিবাচক দুটি দিক আছে। ইন্টারনেট যেমন বিশ্বব্যাপী কল্যাণ সাধন করছে, তেমনি তরুণ সমাজ এর নেতিবাচক ব্যবহারের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে। যত্রতত্র মোবাইল ফোন ব্যবহার তরুণদের নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন ঘটাচ্ছে। সারা বিশ্বে এ সমস্যা বাড়ছে। মোবাইল নিয়ে ক্যাম্পাসে গেলে পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ থাকবে না।

ক্যাম্পাসে রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতির আওতামুক্ত থাকবে। ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দল বা অঙ্গ সংগঠনের নামে সভা, সমাবেশ, মিছিল ও দেয়াল লিখন ইত্যাদি করা যাবে না। এসব কাজে কোন শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণের লক্ষ্যে চসিক পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বাচিত ফোরাম থাকবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ফোরামের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলাদলি, মারামারি কাটাকাটি করতে দেওয়া যাবে না। আগামী জুলাই থেকে চসিকের শিক্ষা নীতিমালা কার্যকর হবে বলে জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আগামী জুলাই থেকে চসিকের শিক্ষা নীতিমালা কার্যকর হবে বলে জানান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া, বিদ্যালয় পরিদর্শক নাজমুল হোসাইন ও চসিক শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।