শনাক্ত হল স্তন-ক্যানসারের জন্য দায়ী জিন

স্তন ক্যানসারের চিকিত্সার জন্য রোগ শনাক্ত করা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে অধিকাংশ সময়ই দেরি হয়ে যায়৷ সচেতনতার অভাব, রোগ সম্পর্কে অবহেলা ও মহিলাদের সহজাত সঙ্কোচ প্রভৃতি কারণে এই রোগ যখন ধরা পড়ে ততদিনে তা জটিল আকার ধারণ করে৷ এই সমস্যার সমাধানেই নতুন এই আবিষ্কার গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে গবেষকরা মনে করছেন৷

বংশগতভাবে স্তন ক্যানসারের প্রবণতা রয়েছে এমন প্রায় এক লক্ষ মহিলার উপর এই গবেষণাটি করা হয়েছে৷ লন্ডনের ইনস্টিটিউট অফ ক্যানসার রিসার্চের গবেষকরা দেখেছেন মানুষের ৯ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি বিশেষ অংশ (লোকাস) স্তন ক্যানসারের জন্য দায়ী৷

Breast_Tumors_Treatments2

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অফ ক্যানসার রিসার্চের প্রধান গবেষক নিক ওরর জানান, এই দুটি অংশই ইস্ট্রোজেন হরমোনের রিসেপটার হিসাবে কাজ করে৷ সেই সঙ্গে এই দু’টি অংশ (আর এস ১০৮১৬৬২৫ ও আর এস ১৩২৯৪৮৯৫)‘কেএলএফ-৪’ নামে জিনের কার্যক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে৷ ‘কেএলএফ-৪’ জিনটি মূলত কোষ বিভাজন ও কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে৷ এই জিনের কার্যক্ষমতা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে গেলে টিউমার ও ক্যানসার হতে পারে৷

যে এক লক্ষ মহিলাকে নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে তাদের ৮৬ হাজার ইউরোপ, ১২ হাজার এশিয়া ও দু’হাজার আফ্রিকার নাগরিক৷ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই জিনের প্রভাবে এশিয়ার নাগরিকদের তুলনায় ইউরোপীয়ানদের ক্যানসার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি৷ স্তন ক্যানসারের জন্য দায়ী ক্রোমোজোমের যে দুটি অংশকে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়েছে তারা মূলত এক ধরনের স্তন ক্যানসারের (ইস্ট্রোজেন রিসেপটার পজেটিভ) সম্ভাবনাকেই বাড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন ওরর৷

তবে জিনের ‘ফাইন ম্যাপিং’ এর সাহায্যে রোগের সম্ভাবনার কথা আগাম জানা থাকলে নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক সময়ে রোগ সনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সাহায্যে সমস্যার সমাধান অনেক সহজ হবে বলে তারা দাবি করেন৷