বেড়েই চলেছে পুলিশের বাড়াবাড়ি, শঙ্কিত জনসাধারণ

POLICE

কর্ণফুলী নিউজঃ চলতি মাসে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্য। সর্বশেষ গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রঞ্জিত বড়ুয়ার বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করেন নুরজাহান জুলী নামের এক প্রবাসীর স্ত্রী।

যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার পাশাপাশি ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং আটকে রেখে টাকা আদায়ের মতো ফৌজদারি অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অপরাধে সাত বছরে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্যকে তিরস্কার এবং সতর্কের মতো লঘুদণ্ডের পাশাপাশি ৩’শ ৭ জনকে চাকুরিচ্যুতির গুরুদণ্ড দেয়া হয়েছে । আজ মঙ্গলবার সময় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এসব তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ আতংকের মধ্যে রয়েছে বলে মত দিয়েছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। পুলিশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি বিভিন্ন অপরাধে ২০০৯ সালে ৬’শ ৫৮ জনকে, ২০১০ সালে ৪’শ ১ জনকে, ২০১১ সালে ৬’শ ৮৬ জনকে, ২০১২ সালে ৬’শ ১৪ জনকে, ২০১৩ সালে ৩’শ ৪২ জনকে, ২০১৪ সালে ৩’শ ৭০ জন এবং ২০১৫ সালে ৪’শ ৫৮ জন পুলিশ সদস্যকে তিরস্কার, সতর্ক, পানিশমেন্ট ড্রিলের মতো লঘুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর এ সময় চাকুরিচ্যুত এবং কালো তালিকাভুক্ত করার মতো গুরুদণ্ড দেয়া হয়েছে ৩’শ ৭ জনকে। এর মধ্যে গত বছর সর্বোচ্চ ৬৩ জন গুরুদণ্ড পেয়েছেন। এ পরিসংখ্যান কিন্তু প্রকৃত চিত্র নয়। শুধুমাত্র শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে যেসব অভিযোগ এসেছে,তার তদন্ত শেষে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। অপরাধ হয়েছে কিন্তু অভিযোগ না আসায় শাস্তি হয়নি এ ধরণের উদাহরণ অনেক বেশি। পুলিশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ আতংকের মধ্যে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, সিএমপির উপ-পরিদর্শক এবং পরিদর্শক পদ মর্যাদার অন্তত ১৭ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।