বাঁশখালীতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় এলাকাবাসীর মিছিলে পুলিশের গুলি, ৮ জন নিহত

FB_IMG_1459778642467

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সাধারণ জনগণ ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।

গন্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পুলিশ পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করায় এলাকাবাসীর মিছিলে গুলি চালিয়েছে । স্থানীয় সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায় এতে অন্তত আটজন নিহত । এতে কয়েকজন পুলিশও আহত হওয়ার খবর দিয়েছে । তবে পুলিশ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

সোমবার বিকেলে ৪টার দিকে স্থানীয় গণ্ডামারা হাজী পাড়া স্কুল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ এখনো চলছে।

গন্ডামারার সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী সুত্রকে বলেন-‘দীর্ঘদিন যাবত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা করে আসছিল সাধারণ জনগণ। এর প্ররিপ্রেক্ষিতে ২ এপ্রিল এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিল সাধারণ জনগণ। ওই মিছিলে পুলিশ সহ প্রভাবশালী মহলের লোকজন বাধা দেয়। এবং উল্টো মিথ্যা মামলা করে ৭ জনকে ধরে নিয়ে যায় বাঁশখালি থানা পুলিশ। সেই প্রেক্ষিতে আজ এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে তাঁর নেতৃত্বে সাধারণ জনগণ’।

FB_IMG_1459778608065

তিনি আরও জানান-‘ওই প্রতিবাদ সভায় পুলিশ ও প্রভাবশালী মহল নির্বিচারে হামলা চালায়’। হামলায় ৮ জন নিহত হয় বলে তিনি জানান। নিহতরা হলেন, জাকির হোসেন(৬২), মউতুন আলী(৬০), আনোয়ার মিয়া(৫২), জহির(৪০), জাকের(৪১), ৩ জনের নাম এখনো জানা যায় নি। তবে নিহতদের মধ্য একজন নারী বলে জানা যায়। পুলিশ একজনের লাশ নিয়ে গেলেও বাকিদের লাশ স্বজনদের হেফাজতে আছে বলে তিনি জানান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে পক্ষে বিপক্ষে সমাবেশে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা ভঙ করায় পুলিশ বাধা দিলে এতে পুলিশের ওপর হামলা করে এলাকাবাসী। এসময় পুলিশ গুলি ছোঁড়লে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। এমনকি পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলার গণ্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চাইনা সেফকো কোম্পানীর যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের বিপক্ষে গত কয়েক মাস ধরে এলাকাসাীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে বাধা প্রদান করছে স্থানীয় জনতা। প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষে দুইটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। একটি পক্ষ কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিরোধে মিছিল মিটিং, সভা, সমাবেশের মাধ্যমে জোর প্রতিবাদ চালাচ্ছে। ওই পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী আর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে আছেন স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল আলম মাষ্টার। এরআগেও গত ১৮ মার্চ এনিয়ে দুপক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে নিয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ ক্দ্রে বিরোধী মিছিলে গুলি চালিয়ে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।