ফয়’স লেকের ইজারা চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার

 

চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করাসহ একাধিক অনিয়মের কারণে কনকর্ডের সঙ্গে ফয়’স লেক ইজারা চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার। সরকারের রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ প্রক্রিয়ার কথা জানানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ৩০ জুলাই সংসদীয় কমিটি এসব অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে কনকর্ডের সঙ্গে ইজারা চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কনকর্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ কমিটিতে অবহিত করা হয়। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে ফয়’স লেক এলাকায় রেলওয়ের ৩৩৬ একর জমির সীমা নির্ধারণ এবং কনকর্ডের অধীনে থাকা ভূমি ব্যবহারে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় তাদের লাইসেন্স বাতিল করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সংবাদ মাধ্যমে বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ নিচ্ছি। তবে, এই মুহুর্তে প্রকাশ করা হলে এর বিরুদ্ধে নানা অপচেষ্টা হবে। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। চূড়ান্ত পর্যায় গেলে বিষয়টি আপনাদের অবহিত করা হবে।

উল্লেখ্য ২০০৩ সালে রেলওয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রামের ফয়’স লেকের ৩৩৬ দশমিক ৬২ একর জমি রেলওয়ে,পর্যটন করপোরেশন এবং কনকর্ডের (কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেড) সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। এর আওতায় ৫০ বছরের জন্য ফয়’স লেকের ইজারা পায় কনকর্ড।

২০০৫ সালে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও রিসোর্ট। জলাধারে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও রেস্টুরেন্টের কারণে পানি দূষিত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন সময়। ‘নামমাত্র মূল্যে‘ করা ওই চুক্তিতে অসম আখ্যা দেওয়াসহ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করাসহ প্রতিবছর বাংলাদেশ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও উঠে কনকর্ডের বিরুদ্ধে।

এসব বিষয় নিয়ে গত মে মাসে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পর্যটন করপোরেশন এবং কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট ও কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কন্সট্রাকশনের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে চুক্তির শর্তের বাইরে ফয়’স লেকে যেসব কাজ করা হয়েছে সেগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া কী কী শর্ত ভঙ্গ হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে ৩০ জুলাই রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে ফয়’স লেক ইজারা চুক্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফয়’স লেকের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতিবছর ১ কোটি ৯৮ হাজার টাকার ভূমি উন্নয়ন কর দিচ্ছে। অথচ ইজারাকৃত প্রতিষ্ঠান কনকর্ড বছরে মাত্র ৩৭ লাখ টাকা রেলওয়েকে দিচ্ছে। যার ফলে প্রতিবছর সরকারের ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বৈঠকে কনকর্ডের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করার অভিযোগ ওঠে। এ অবস্থায় কনকর্ডের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।একই সঙ্গে কমিটি ফয়’স লেকে সরকারের জন্য লাভজনক প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সর্বসম্মত সুপারিশ করে।