ফেসবুক বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠির জবাব দিয়েছে বিটিআরসি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠির জবাব পাঠিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব উল্লেখ করে চিঠিতে কিছু সুপারিশের কথাও বলা হয়েছে। বিটিআরসি মনে করে, অভিভাবকরা সচেতন থাকলে ফেসবুক কোনোভাবেই ক্ষতিকর হবে না।

বিটিআরসি বলছে, ফেসবুকে বয়সভিত্তিক কোনও গ্রুপ থাকে না। ব্যবহারকারীদের মধ্যে কে শিক্ষার্থী, আর কে কিশোর তা চিহ্নিত করা সম্ভব না। ফলে কেবল শিশুদের জন্য আলাদা করে ফেসবুক বন্ধের কোনও সুযোগ নেই। সূত্র বলছে,ফেসবুক বন্ধ না করে এর ভালো দিককে উৎসাহিত করতে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। তাদের মতে, ফেসবুক বন্ধ করলেও ভাইবার, ইমো অনেককিছু আছে সেগুলোতো বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি বদলাবে না। এমনকি অতীতে দেখা গেছে, ফেসবুক বন্ধ করলেও ভিপিএন বা প্রক্সি সার্ভার দিয়ে লোকজন ঠিকই ঢুকছে। শুধু শুধু বন্ধের দিকে না গিয়ে এর ইতিবাচক দিকগুলোকে দেখতে হবে এবং শিশুদের ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘প্যারেন্টাল গাইডেন্স’ থাকতে হবে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালকে বলেন, ‘‘আমরা আমাদের বিশ্লেষণ জানিয়েছি।ওই সময়টাতে ফেসবুক শিশুরা ব্যবহার করে বিষয়টা তেমন নয়। বাইরের দেশে সেই সময়টা ‘ওয়ার্কিং আওয়ার’। ফলে এটি বন্ধ রাখা সম্ভব না। আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, ফেসবুক ব্যবহারকারী সবাই, কেবল শিশুদের জন্য বন্ধ করার কিছু নেই।’’

অভিভাবকদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বিটিআরসির মুখপাত্র মো. সরওয়ার আলম বলেন, ‘ফেসবুকের ব্যবহার কেমন হবে তা ব্যক্তির ওপরে নির্ভর করে। ছাত্রছাত্রীদের যদি পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে, শিক্ষক পরের দিন অ্যাসাইনমেন্ট দিলেই এবং তার পারফরমেন্স দেখলেই বুঝবেন, সে পড়াশোনা করছে কিনা। আবার অভিভাবকদেরও দায়িত্ব আছে। তারা সতর্ক থাকলে ফেসবুকের মাধ্যমে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এমনকি ফেসবুকের ইতিবাচক দিকগুলোকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এদিকে সকালে মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসিতে চিঠি যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর দুপুরে টেলিযোগাযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মধ্যরাতে ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফেইসবুক’- এই ধরনের সংবাদ সঠিক নয়। এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকার ফেসবুক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি, নেবেও না।’ ২০১৬ সালে ডিসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতকালে শিশুদের কার্টুন ও ফেসবুকে আসক্তি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ডিসিদের পক্ষ থেকে এগুলো কিছু সময়ের জন্য বন্ধের আবেদন জানানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সেসময় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিআরসিকে জানানো হলেও বিটিআরসি তার জবাব দেয়নি। পরবর্তী ডিসি সম্মেলনের প্রস্তুতিকালে সেই বিষয়টি নজরে এলে আবারও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিটিআরসিকে চিঠি পাঠানো হয়।

সুত্র- বি/টি