পুলিশের ভুলের শিকার মডেল মারিয়া

Mariya11438750616

চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশি থানার একটি গেস্ট হাউজ থেকে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ৩৮ তরুণ-তরুণীকে গ্রেফতার করেছিলো নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)। এদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রামের সুপরিচিত মডেল মারিয়া জাহান। গ্রেফতারের একদিন পরেই আদালতে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান মডেল মারিয়া। মুক্তি পেয়ে মডেল মারিয়া দাবী করেছেন তিনি পুলিশের ভুলের শিকার হয়েছেন। ডিবি পুলিশের একটি ভুলের কারণে তার জীবনের সব কুলই তিনি হারিয়েছেন। মারিয়া বলেন, ‘ওই গ্রেফতারের ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় এবং পুলিশের ভুলের কারণে আমার এক ছোট বোনের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। একই সাথে মা-বাবা হারানোর পর আমি যে খালার কাছে থেকে বড় হয়েছি সেই খালাও সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এখন আমি সব কুল হারা।’ মডেল মারিয়া জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মুনহিল গেস্ট হাউজে ছিলাম না। আমি কখনো সেই গেস্ট হাউজে যাইনি। পুলিশ রাস্তা থেকে আমাকে আমাকে সন্দেহজনক ভাবে ভুল করে আটক করে। পুলিশের সন্দেহ ও ভুলের কারণে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সামাজিক ভাবে আমি হেয় হেয় প্রতিপন্ন হলাম।’ প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকার মুনহিল গেস্ট হাউজ নামের একটি অভিজাত গেস্ট হাউজে অভিযান চালিয়ে ৩৮ তরুণ-তরুণীকে আটক করে পুলিশ। আটকৃতদের মধ্যে ছিলেন মডেল মারিয়া জাহানও। মারিয়া বলেন, ‘পুলিশ আমাকে গেস্ট হাউজ থেকে গ্রেফতার করেনি। গেস্ট হাউজের সামনের রাস্তা থেকে ডিবি পুলিশ আমাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে। আটকের পর আামি পুলিশকে প্রশ্ন করেছিলাম। আমাকে কেন গ্রেফতার করা হলো। পুলিশ বলেছিলো, আপনাকে আমরা ভুল করে ধরে ফেলেছি, থানায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিবো।’ মারিয়া বলেন, ‘কিন্তু ডিবি পুলিশ আমাকে থানায় যাওয়ার পর ছাড়েনি। উল্টো আমাকে কোনো কিছু না জিজ্ঞেস করে খুলশী থানায় আমাকে হস্তান্তর করে ডিবি পুলিশ থানা থেকে চলে যায়।’ এই প্রসঙ্গে নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, ‘মডেল মারিয়ার এই অভিযোগ সত্য নয়। আমরা তাকে মুনহিল গেস্ট হাউজ থেকেই আটক করেছিলাম। রাস্তা থেকে নয়।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, রাস্তা থেকে অহেতুক বা অপ্রয়োজনে কাউকে আটক করাও সম্ভব নয়। তবে নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে মডেল মারিয়া তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে আমি একই এলাকার ফ্লেভারস স্টোর থেকে ৫৭০ টাকা মূল্যের বেশ কিছু পন্য সামগ্রী ক্রয় করি। সেই সময়ে বৃস্টি হচ্ছিলো। তাই বৃষ্টির মধ্যে আমি ওই দোকান থেকে দৌড় দিয়ে পূর্ব থেকে অপেক্ষমান আমার নিজের ভাড়া করা সিএনজি টেক্সিতে উঠতে গেলে পুলিশ আমাকে আটক করে। পুলিশের সন্দেহ আমি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলাম।’ মডেল মারিয়া জাহান জোর দাবি করে বলেন, ‘আমি যড়যন্ত্রের শিকার। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত আমি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নেভালে (সি বীচ) ছিলাম। মানবিক কারণে আমার এক পরিচিতজনকে কিছু টাকা দিতে আমি রাত সাড়ে আটটার দিকে খুলশীতে যাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মোবাইল ০৪৫১৭২ (শেষ ছয় ডিজিট) অবস্থান পর্যবেক্ষণ করলে পরিস্কার হয়ে যাবে আমি মুনহিল গেস্ট হাউজে ছিলাম না। নেভালে আমার সাথে আমার এক বন্ধুও ছিলো যার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার ৪৩২২০৬ (শেষ ছয় ডিজিট) আমরা দুজনে একই সঙ্গেই ছিলাম। আমি যদি সন্ধ্যার পর যদি নেভালে থাকি তাহলে গেস্ট হাউজে ছিলাম কিভাবে ?’ তিনি বলেন, ‘আমি যে সিএনজি টেক্সিতে করে নেভাল থেকে এসেছিলাম সে ট্যাক্সটি আমার সঙ্গেই ছিলো। পরে গোয়েন্দা পুলিশ নিজে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে টেক্সি ভাড়া দিয়ে চালককে চলে যেতে বলেন।’ জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হবে এমন আশ্বাসের কারণে থানায় যেতে রাজি হয়েছেন জানিয়ে মারিয়া আরও বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশ বলেছিলো, আপনাকে আমরা ভুল করে ধরে ফেলেছি- থানায় গিয়ে ছেড়ে দিবো।’ এক প্রশ্নের জবাবে মারিয়া বলেন, ‘আমার মধ্যে কোনো দুর্বলতা ছিলোনা বলেই থানাতে আমার প্রকৃত নাম- ঠিকানা দিয়েছি। নির্দ্বিধায় পুলিশকে বলেছি, আমি একজন শিল্পী। অভিনয় আর মডেলিং করি।’ মারিয়া বলেন, ‘আমি যদি খারাপ কোনো কাজের সাথে জড়িত থাকতাম তা হলে প্রকৃত নাম ঠিকানা পুলিশকে দিয়ে আমি আমার পরিবারকে ছোট করতাম না। কিন্তু পুলিশের ভুল শিকারে পরিণত হয়ে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে আমাকে সব কিছুই হারাতে হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলশি থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৩৮ তরুণ-তরুণীকে আটক করেছিলো। এদের মধ্যে মারিয়াও ছিলো। গোয়েন্দা পুলিশ আটককৃতদের আমাদের কাছে হস্তান্তর করার পর আমরা পরদিন তাদের আদালতে সোপর্দ করি।’