পাখিকে বিদায় দিয়ে মোদিকে নিয়ে কিরণমালার প্রবেশ

kioronmala

কর্ণফুলী নিউজঃ বাংলাদেশের ঈদ বাজারে গরম নিঃশ্বাস ছাড়ছে ভারতীয় সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্র। বাজার ছেয়ে গেছে ভারতীয় পোশাকে। ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে কখনো দেশে তৈরি পোশাকের নামকরণ করা হচ্ছে ভারতীয় সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নামে। বাজারে উঠেছে কিরণমালা, রাজকুমারী, ইচ্ছে নদী, জলকন্যা, পামেলা, পাতালপুরি, ছুঁয়ে দিলে মন, বউ কথা কও, মোদি-১, মোদি-২, মোদি-৩, দাবাং-৩, পাগলু-২ সহ বিভিন্ন তারকার নামের পোশাক। গত বছর পর্নো তারকা সানি লিওনের পোশাক খুঁজতেও শপিং মলগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে টিন-এজ ক্রেতারা। তখন দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা ডামি পুতুলের গায়ে দেখা যায় ‘সানি লিওন’ পোশাক।

এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটের একাধিক দোকানদার বলেন, ক্রেতা যখন যা চায় আমাদের তাই পূরণ করতে হয়। না হলে ব্যবসা করা যায় না। বাংলাদেশি একটা সাধারণ থ্রি-পিসের গায়েও ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের কোন চরিত্র বা নায়িকার নাম জুড়ে দিলে অনায়াসে তা বিক্রি হয়ে যায়। অবশ্য সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রগুলোর নাম সব পোশাকে লাগানো যায় না। কারণ ক্রেতারা এগুলোর মডেল আগে থেকে বাঁছাই করে আসেন। সেক্ষেত্রে ভারত থেকে ওইসব পোশাক আমদানি করতে হয়। যাদের বাজেট কম তাদের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশে ওই ডিজাইনের পোশাক তৈরি করা হয়। হুবহু ডিজাইন না হলেও নাম জুড়ে দিলে বিক্রি হয়ে যায়।

এবার ঈদের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পোশাকের গায়ে জুড়ে বসেছে ‘কিরণমালা’, ‘রাজকুমারী’, ‘ইচ্ছে নদী’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘জলকন্যা’- এসব বাহারি নাম। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই তালিকা থেকে বাদ যাননি। গতবারের ‘পাখি’ ড্রেসের পরিবর্তে এবার এসেছে ‘পাখি রিটার্ন’। তবে সবচেয়ে বেশি চলছে এই ঈদে ‘কিরণমালা’ নামের পোশাকটি। গত বছর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল ‘পাখি’ ড্রেস। তখন পাখি ড্রেস কিনে না দেওয়ায় অনেক মেয়ে স্বামীর সংসার ছাড়ে, অনেকে আত্মহত্যা করে। এবার গত একমাসেই ‘কিরণমালা’ পোশাকের জন্য কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।

গত রবিবার রাতে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে কৃষক বাবার কাছে ঈদ উপলক্ষে ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলশার ‘কিরণমালা’ চরিত্রের নামে জামা কেনার টাকা চায় মেয়ে মিনারা আক্তার (২২)। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে বাবা ছায়েদ বেপারী মেয়ের এ আবদার পূরণ করতে পারেনি। কিরণমালা জামা বিহীন নিজের জীবনকে অর্থহীন মনে করে অভিমানী মিনারা নিজ ঘরের বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরই ভারতীয় পোশাকগুলোর নতুন নাম দেওয়া হয়। কয়েক বছর আগে ‘মাসাককালি’ নামের পোশাক দিয়ে শুরু হয়। এরপর আসে ‘জিপসি’, তারপর ‘সানি লিওন’, গতবার ছিল ‘পাখি’, এবার ‘কিরণমালা’। ভারতীয় সিরিয়াল ‘কিরণমালা’র নায়িকা এমন নকশার পোশাক পরেন বলে এটার নাম কিরণমালা নাম দেওয়া হয়েছে। আর যেহেতু এ সিরিয়ালগুলো বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সংক্রামক ব্যধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে, তাই এটাকে পোশাক বিক্রির একটা মার্কেটিং পলিসি হিসেবেও গ্রহণ করা হয়েছে। তাই প্রতি ঈদে এসব সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নামে পোশাক ছাড়া হয় বাজারে। আর যেহেতু সিরিয়ালগুলোর মূল দর্শক নারীরা আর নারী চরিত্রগুলোই সিরিয়ালে প্রতিনিধিত্ব করে, তাই পোশাকের ক্ষেত্রে টার্গেটও করা হয় তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে প্রধানত দুই ধরণের কিরণমালা পোশাক আছে। একটা আমদানিকৃত, অন্যটা দেশি। আমদানি করা কিরণমালা পোশাকে লং ড্রেসের ওপরে থাকে কটি, নিচে ঘের, এরপর ফলস, পেছনে নকশা আর দুই পাশে দুটি ঝুমকা। আমদানি হওয়ার কারণে এ পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। তিন থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। আর সাধারণত অল্পবয়সী মেয়ে ও শিশুরা এসে কিরণমালা পোশাক চাইলে তাদের দেওয়া হয় দেশিটা। বিক্রেতারা জানান, ছোট মেয়েদের জন্য ওই অর্থে কিরণমালা পোশাক আসেনি। সেক্ষেত্রে যে কোন নকশার পোশাক বের করে তারা বলেন, এটা ‘কিরণমালা’। কোনো পোশাকে পুঁতি বা পাথরের কাজ করা থাকলেই নাম ‘কিরণমালা’। এই নাম না বললে ক্রেতারা নিতে চান না। মেয়েরা দোকানে ঢুকেই বলেন, কিরণমালা পোশাক দেখান। দেশি কোনো পোশাক দেখাতে চাইলে উঠে চলে যান। এজন্য দেশি পোশাকও বিভিন্ন ভারতীয় সিরিয়ালের নাম দিয়ে বিক্রি করতে হয়।