পাঁচলাইশ থেকে সাঈদী পুত্রের সাথে বৈঠক করা ‘রকি বড়ুয়াকে’ আটক করেছে র‍্যাব-৭

 

চট্টগ্রামে রকি বড়ুয়া নামে একজনকে ৬ সহযোগিসহ আটক করেছে র‌্যাব-৭।

আটককৃত রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে সাঈদীর পুত্রের সাথে বৈঠক, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সাজপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে মুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর সদস্যরা ১২ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায়।

র‍্যাবের অভযানে রকি বড়ুয়া (৪০), পিতা- জয়সেন বড়ুয়া, সাং- চরম্বা, সফিউল আজম শহিদ (৪০), ছগির আহাম্মেদ (৪০), রুবেল বড়ুয়া (২৭), সাইফুল ইসলাম নয়ন (৩৮) এবং নারায়ন মল্লিক (৩৪) কে আটক করে।  ওই বাসা থেকে ০১ টি বিদেশী পিস্তল, ০১ টি ম্যাগাজিন, ০৬ রাউন্ড গুলি এবং ০৬ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় পালানোর জন্য রকি বড়ুয়া ৩ তলার কার্নিশ থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়।

রকি বড়ুয়ার দেয়া তথ্যমতে তার লালখান বাজারের বাসায় মাদক উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করলে সেখান থেকে দুই বোতল বিদেশী মদ, ৩৫ লক্ষ টাকার এফডিআর এর কাগজপত্র, ১৩ টি স্বাক্ষরযুক্ত ১০০ টাকা মূল্যের খালি স্ট্যাম্পসহ তার তদ্বির বাণিজ্য ও প্রতারণার বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়। বাসা থেকে শাহিনা ইসলাম প্রিয়া (২৪) নামে একজন নারীকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭ সাংবাদিকদের জানায়, গত ১ এপ্রিল মধ্যরাতে লকডাউন পরিস্থিতিতে লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের বিবিবিলা বড়ুয়া পাড়ায় রকি বড়ুয়ার সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন যুদ্ধাপরাধে যাবজ্জীবন দণ্ড প্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদীসহ কয়েকজন। সাঈদী পুত্রের সাথে রকি বড়ুয়া ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খালা ও নিরাপত্তা বিপন্ন করার মাধ্যমে সাজপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে মুক্তির বিষয়ে রাতভর বৈঠক করেন। বিষয়টি প্রকাশ পেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

এসব অভিযোগের পর ভিত্তিতে র‌্যাব-৭, রকি বড়ুয়ার বিষয়ে তদন্ত করে এবং প্রাথমিকভাবে সেগুলোর সত্যতা খুঁজে পায়।

উপরোক্ত ঘটনায় রকি বড়ুয়ার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইন ছাড়াও অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।