পটুয়াখালীতে সন্ন্যাসীর স্ত্রী পালিয়ে গেল পাশের বাড়ির এক যুবকের সাথে !

কর্ণফুলী ডেস্কঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় গৃহত্যাগী এক সন্ন্যাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে নিয়ে পালিয়ে মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেছে সামন্ত চন্দ্র রায় (২১) নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের চর হরিদেবপুর গ্রামে।

যুবক সামন্ত চন্দ্র রায় চর হরিদেবপুর গ্রামের শৈলেন চন্দ্র রায়ের ছেলে। আর গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী বাসুদেব রায় (৫৫) একই এলাকার মৃত বেনীমাধব রায়ের ছেলে।

জানা যায়, সাত বছর অাগে বাসুদেব বাড়ি ছেড়ে চলে যায় এবং সন্নাস ধর্ম গ্রহণ করে। এরপর পাশের বাড়ির সামন্ত চন্দ্র রায়ের অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার (০২ জুন) তারা উভয়ে নিজ এলাকা থেকে পালিয়ে গিয়ে ঢাকার শাখারীপট্টির গোয়ালন্দ পাড়ায় চরহরিদেবপুর গ্রামের মেয়েতৃষ্ণা রানীর ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে ওই এলাকার একটি মন্দিরে গিয়ে শিখা রানী রায় ও সামন্ত চন্দ্র রায় ঠাকুরের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।

খবরটি জানাজানি হলে সামন্ত চন্দ্র রায়ের বাবা শৈলেন চন্দ্র রায় ছেলের খোঁজ নিতে থাকেন। অবশেষে গতকাল সোমবার ঢাকার শাখারী পট্টির গোয়ালন্দ পাড়ায় তৃষ্ণা রানীর ঘর থেকে ছেলে সামন্ত চন্দ্র রায় ও শিখা রানী রায়কে উদ্ধার করে গলাচিপায় নিয়ে যান। সেখানে গোলখালী ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম গাউস নিপু তালুকদারের কাছে হাজির করেন। পরে ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান সামন্ত চন্দ্র রায় ও শিখা রানী রায়কে থানায় নিয়ে যান। ওই সময় শিখা রানী রায়ের প্রাক্তন স্বামী গৃহত্যাগী সন্ন্যাসী বাসুদেব রায়কে থানায় দেখা যায়।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সন্ন্যাসী বাসুদেব রায় বলেন, আমি আর কোনদিন এই স্ত্রীকে ঘরে তুলে নেব না।

বাসুদেব রায় ও শিখা রানী রায়ের ১৪ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

গলাচিপা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হিন্দু ধর্ম মতে সামন্ত চন্দ্র রায় ও শিখা রানী রায় এখন স্বামী-স্ত্রী। ওদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না থাকায় পুনরায় গোলখালী ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

পরে এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম গাউস নিপু তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোর্টের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিষয়টি সমাধান করা হবে যাতে সামন্ত চন্দ্র রায় ও শিখা রানী রায় পরবর্তীতে কোন সমস্যায় না পড়ে।