নালিশ করে কী হচ্ছে! নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়

 

মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কারণেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও বিএনপি জনসমর্থন পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যার-যার প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। সে নির্বাচনেও বিএনপির খুব একটা গরজ দেখছি না। কেমন যেন একটা ভাসা-ভাসা ভাব। বিএনপি কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছে, অভিযোগ করে যাচ্ছে। বিএনপির কাজ কেবল নালিশ করা! নালিশ করে কী হচ্ছে! ‘নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়।’ রবিববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চলছে, তখন নানাভাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের বাইরে থেকেও দেশের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।

নানাভাবে সরকারকে হেয় করার চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি শক্তির দোসর বা পচাত্তরের পনেরো অগাস্টের খুনিদের দোসররা এমনিতেই থেমে যাবেন না। তারা সবসময়ই সক্রিয় থাকবেন। এটা আমাদের মাথায় রেখেই চলতে হবে। তাদের মোকাবিলা করেই চলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেই আজ সারাবিশ্বের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তারা বাংলাদেশকে দেখছে। অনেকের কাছে এটা বিস্ময়কর—কী করে পারল।

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, অনেক রক্ত, অনেক  বেদনার ভেতর দিয়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এত রক্ত, এত আত্মত্যাগ কখনও বৃথা যেতে পারে না। কাজেই আমরা তা বৃথা যেতে দেব না।

স্বাধীনতা দিবসের আলোচনার শুরুতেই শেখ হাসিনা স্মরণ করেন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে। একইসঙ্গে তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, ত্যাগী ও অংশগ্রহণকারীদেরও স্মরণ করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের বিষয়ে শেখ হাসিনা  আলোকপাত করেন। তিন বলেন, বাংলাদেশকে তিনি (বঙ্গবন্ধু) স্বাধীন করবেন, এই চিন্তা তার শুরু থেকেই ছিল। পতাকার ডিজাইন কী হবে, সেটাও তিনি নিজেই ঠিক করে দিয়েছিলেন। ধাপে-ধাপে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৯ সালে লন্ডন সফরের সময় গেরিলা যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, লন্ডনে বসেই বঙ্গবন্ধু গেরিলারা কোথায় ট্রেনিং পাবে, সেই ব্যবস্থা করেছিলেন। শরণার্থীদের কারা শেল্টার দেবে, গেরিলাদের জন্য অস্ত্র কোথা থেকে আসবে। সবকিছু তিনি ওইসময় বসে পুরো প্ল্যান করে আসেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ পুড়িয়ে মারলেই তার মুখে হাসি ফোটে। মানুষের ভালো দেখলে তার মুখে হাসি ফোটে না। এখন মানুষের মুখে হাসি আছে, তার মুখে হাসি নেই। এটাই স্বাভাবিক। এর বেশি তার কাছ থেকে আশা করা যায় না।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, মাহবুবুল আলম হানিফ, দীপু মনি প্রমুখ।