নারী পাচারকারী এখন পীর দয়াল বাবা !

vondo

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার আমগ্রামে খুন ও নারী পাচার মামলার আসামি এখন পীর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে রাজৈর থানায় সোমবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভণ্ড পীরের সাবেক স্ত্রী নাজমা বেগম।

এ ভণ্ড পীরের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। নির্যাতিতা নাজমা বেগম ও এলাকাবাসী জানায়, ভণ্ড পীর হযরত সৈয়দ আক্তার হোসেন ওরফে লিটন পাগলা ১৬ বছর আগে নাজমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের একটি ছেলে ও দুইটি মেয়ে সন্তান হয়।

অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে প্রায় আট বছর আগে নাজমা তার স্বামী আক্তারকে ডিভোর্স দেয়। এর পর আক্তার হোসেন আর একটি বিয়ে করেন। এ পর্যায়ে এক মেয়ে ও এক ছেলে বাবা ও সৎ মায়ের অত্যাচার সইতে না পেরে নাজমার কাছে চলে আসে।

সোমবার নাজমা ও তার অপর মেয়ে লাখীকে (১০) দেখতে গেলে ভণ্ড পীর আক্তার এবং তার বর্তমান স্ত্রী মিলে তাদের দুজনকে মারপিট করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নির্যাতনের শিকার নাজমা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পর বেড়িয়ে আসে কথিত ভণ্ড পীরের অপকর্ম, কুকীর্তি ও উত্থানের নানান কাহিনী।

এলাকাবাসী ও নির্যাতিতা সাবেক স্ত্রী সূত্রে জানা যায়,  কথিত ভণ্ড পীর সৈয়দ আক্তার হোসেন লিটন পাগলার গ্রামের বাড়ি উপজেলার লুন্দি গ্রামে। তিনি মাদ্রাসার নাম করে টাকা তুলে সংসার চালাতেন।

পরে খুন, নারী পাচার মামলার আসামি হয়ে ঢাকায় গিয়ে মায়ের দোয়া আঁখি এন্টারপ্রাইজ নামে মুদি দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকে। গত তিন বছর তিনি নাম পরিবর্তন করে দয়াল বাবা হযরত সৈয়দ আখতার হোসেন (লিটন পাগলা) নাম করে উপজেলার আমগ্রামে জমি কিনে দয়াময় দরবার শরীফ খুলে বসেন।

টাকার উৎস জানতে চাইলে দয়াল বাবা আক্তার হোসেন লিটন জানায়, দয়ালবাবা টাকা দিয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি ভণ্ড নই। আমি চার তরীকার লোক। আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ বিষয়ে ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, ওই পীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তার দরবারে মুসলমান ও হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় ছবি এবং চার তরীকা (মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও হিন্দু) সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভণ্ডামি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিবেশীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি তার জন্মস্থান লুন্দি গ্রামের লোকেরা মোবাইল প্রতারণাসহ নানান অভিযোগ করেছে লিটন হোসেনের বিরুদ্ধে।

 

সুত্র- বি/ম