ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে মাত্র ২ ঘণ্টায় !

Dhaka Chittagong

ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যাতায়াত সময় দুই ঘণ্টায় নেমে আসবে বলে জানিয়েছেন সড়ক বিশেষজ্ঞরা। ২৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মেয়াদ হবে চার বছর, কাজ শেষ হবে ২০২২ সালে।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা ও সমাজের বিশিষ্টজনদের নিয়ে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেস হাইওয়ের প্রস্তাবিত এলাইনমেন্ট এবং নকশা’ সম্পর্কিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানানো হয়। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিশির কান্তি রাউৎ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দল প্রধান গ্যাভিন স্ট্র্যাড।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে বলা হয় বাংলাদেশের লাইফ লাইন। এই করিডোর দিয়েই আমদানি-রপ্তানিসহ দেশের সিংহভাগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। দেশের অর্থনীতি এখনো চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক হওয়ায়, ৯৫ ভাগ আমদানি-রপ্তানি এ পথেই হয়ে থাকে। বর্তমান যে জাতীয় মহাসড়কটি রয়েছে তা নির্মাণ করা হয় ১৯৬৭ সালে। দুই লেনের ওই সড়কটি বর্তমানে চার লেনে উন্নিত করার প্রকল্পটি শেষ পর্যায়ে।

কিন্তু সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ৩ থেকে ৫ বছর পরে এ মহাসড়ক দিয়েও প্রয়োজন অনুপাতে পরিবহন চলাচল করতে পারবে না। এতে চট্টগ্রামের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সঙ্কটে পড়বে।

তাই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সময় যেমন বাঁচবে তেমনি কমবে দুর্ঘটনা ও ঝুঁকি। প্রকল্প ব্যবস্থাপক শিশির কান্তি রাউতের মতে, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে সর্বোচ্চ সোয়া দুই ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগবে, তিন ঘণ্টা কোনোভাবেই নয়।’

এক্সপ্রেসওয়ের ফলে সুবিধা পাবে চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), মিরসরাই স্পেশাল ইকোনমিক জোন, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ী এলএনজি টার্মিনাল, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আদমজী ইপিজেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া ভুটান ও নেপালের সাথে সড়ক যোগাযোগ ও চট্টগ্রাম বন্দর বা গভীর সমুদ্রবন্দর ব্যবহার নিয়ে যে সম্ভাব্যতা রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে।

দেশের অধিকাংশ পর্যটন স্পটগুলো চট্টগ্রাম বিভাগে। তাই পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে উঠবে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামসহ রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করবে এক্সপ্রেসওয়ের সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা।

যেমন হবে এক্সপ্রেসওয়ে : 
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের দল প্রধান গ্যাভিন স্ট্র্যাড বলেন, ‘এটি একটি হাই ক্যাপাসিটি রোড। যে সড়ক ধরে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে একটি গাড়ি চলতে পারবে। তবে প্রবেশ ও নির্গমনে থাকবে নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট। যে কেউ যখন তথন চাইলেই এক্সপ্রেসওয়েতে উঠে আসতে বা বেড়িয়ে যেতে পারবে না। সড়কের দুই পাশ থাকবে বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা, থাকবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ সড়কে যান্ত্রিক পরিবহন ছাড়া অন্য কোনো পরিবহনকে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।’