জনপ্রতিনিধিরা সবাই কি চোর ?

 

করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে সম্প্রতি দেশের প্রায় বেশিরভাগ গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে চাল চোর নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। বিগত দিনে আমরা দেখেছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতেও অনেক জনপ্রতিনিধি অবৈধ ভাবে সরকারি চাল মজুদের দায়ে আটক হয়েছেন এবং শাস্তিও পেয়েছেন। অনেকেই বলতে শুনেছি ত্রাণের চাল ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। এই নিয়ে সবচেয়ে বেশি ট্রল হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে। তাই এই নিয়ে সাধারণ জনগণের চিন্তার শেষ নেই।

কিছুদিন আগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরিস্থিতিতে এক ভিডিও কনফারেন্সে ত্রাণ বন্টন নিয়ে বলেছেন, যারা গরীবের ত্রাণ নিয়ে ছলচাতুরী করবে তাদের কোন ভাবেই ছাড় দিবেন না। সে কথার প্রতিফলন আমরা দেখেছি কয়েক জনকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে , সব জনপ্রতিনিধিরা কি আসলেই চোর ?

সে প্রশ্নের উত্তর খুজতে হলে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে আমাদের দেশে কতজন জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি হিসেবে দেখা যায়, মেম্বার- ৪১১৩৯ জন, মহিলা মেম্বার- ১৩৭১৩ জন, ইউপি চেয়ারম্যান- ৪৫৭১ জন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পুরুষ/মহিলা- ৯৮৪ জন, উপজেলা চেয়ারম্যান- ৪৯২ জন, পৌর মেয়র- ৩৩০ জন এবং জাতীয় সংসদ সদস্য- ৩৫০ জন
এখানে মোট জনপ্রতিনিধির সংখ্যা- ৬১,৫৭৯ জন দায়িত্ব পালন করছেন।

এই সংখ্যা নিয়ে আমি শতকরা হিসেবে যাবনা কারণ, সব সাধারণ জনগণ গণিতের এসব জটিল হিসাবে অভ্যস্ত নয়। তারা চায় সহজ হিসাব। তাই সহজ হিসেবে বলতে গেলে ৬১,৫৭৯ জন জনপ্রতিনিধিদের ঢালাওভাবে কি  চোর বলা যাবে ? আর সবাই যদি চোর হতো তাহলে কি মানুষ এখনো খেতে পারতো ?

আবার সবাই যে একেবারেই দুধে ধোয়া তুলসীপাতা তাও কিন্তু নয়।

আমি গতকালের একটি ঘটনা বলি, চট্টগ্রামে করোনা কিট শেষ হয়ে গেছে এমন খবর প্রকাশের পর শুনেছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল তার গাড়িতে তুলে নিয়েছেন প্রায় ২০০০ কিট। ইতিমধ্যে হয়তো তা এসেগেছে। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামে মধ্যবিত্তদের জন্য একটি নম্বর উন্মুক্ত করেছেন যাতে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারে।  এখন তিনিও তো একজন জনপ্রতিনিধি।

মাননীয় সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর কথা শুনেছি তার এলাকার লোকের কাছে। বলে ” কখনো যদি যান দেখবেন কি রাস্তা বানিয়ে রেখেছে আপনাদের শহর থেকেও অনেক সুন্দর”।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রও তার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

এমন অসংখ্য জনপ্রতিনিধি আছেন যারা দিনরাত মানুষের জন্য কাজ করে। মানুষের সুখে দুঃখে ছুটে চলে।

হাতের সব আংগুল যেমন এক সমান নয় তেমন সব জনপ্রতিনিধিও সমান নয় তবে সবাইকে ঢালাও ভাবে সমালোচনা করলে তাদের মনোবল দুর্বল হয়ে যায়। তারা যদি ভেংগে পড়ে তাহলে আমাদের এই চলমান মহামারীতে কে পাশে দাড়াবে…?

তাই বলে চাল চোরের পক্ষে বলছি না, চলমান লকডাউনে ত্রাণের চাল চোরদের ধরে শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে এক ইঞ্চি ছাড় দেওয়ার পক্ষে নই। আর যে চাল নিয়ে বর্তমান সময়ে প্রশ্ন উঠেছে তা ভিজিএফের  ১০ টাকার বিমিময়ে দেওয়ার জন্য বরাদ্দকৃত চাল। নেহাৎ গরীবের চাল। স্থানীয় ভাবে বন্টনের দায়িত্বে থাকা কিছু গুটিকয়েক  লোক এসব অপকর্মের সাথে জড়িত তা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। তাই এদের চিহ্নিত করুন। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে তাদের সর্বোচ্চ সেবা নিয়ে মানুষের পাশে দাড়িয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছে। জনগণ এখন আর একা নন। এখনই সময় সমানে সমান হয়ে এই করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দেওয়া।

সবশেষে বলবো, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে  ঘরে থাকুন নিরাপদে থাকুন। পারলে মানুষের সহযোগিতায় হাত বাড়ান এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন।

 

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

প্রকাশক ও সম্পাদক

কর্ণফুলী নিউজ

১৭.০৪.২০২০

 

Do NOT follow this link or you will be banned from the site!