চাঁদাবাজির দায়ে অবশেষে এসআই মাসুদ কারাগারে

 

চাঁদাবাজির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তকৃত সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার সেই এসআই মাসুদ রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসআই মাসুদ রানার আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ২০১৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরীর খারপাড়া মিতালী ৭৪নং বাসার মালিক ডা. একেএম নূরুল আম্বিয়া রিপন মহানগর হাকিম প্রথম আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি দরখাস্ত মামলা (নং-১০৪৯/১৫) দায়ের করেন। এরপর থেকে পুলিশের এই কর্মকর্তা পলাতক ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বরখস্তকৃত এসআই মাসুদ রানা হঠাৎ মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরো এর আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ওই মামলায় জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত দীর্ঘক্ষণ মামলাটি শুনানি করে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে গোপনে মাসুদ রানাকে প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয় পুলিশ। প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন এসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে তিন পুলিশ সদস্য খারপাড়ায় ডা. একেএম নুরুল আম্বিয়ার বাসায় যান সন্দেহভাজন আসামি ধরার নাম করে। ওই রাতে পুলিশ ডা. একেএম নুরুল আম্বিয়াকে নিয়ে নগরীর বারুতখানাস্থ ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন ও তার স্বাক্ষরসহ একটি ব্যাংক চেক নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। এরপরও এসআই মাসুদ রানা বিভিন্ন সময় ওই চিকিৎসকের বাসায় গিয়ে টাকা চাওয়া ও ভয়-ভীতি দেখান। ২৯ আগস্টের ঘটনার পর হয়রানি ও টাকা চাওয়ার অভিযোগ এনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-উত্তর) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ডা. আম্বিয়া। লিখিত অভিযোগে তিনি নগদ ১০ হাজার টাকা ও তার স্বাক্ষরসহ একটি ব্যাংক চেক নেয়ার কথা উল্লেখ করেন। পরে ডা. আম্বিয়ার ওই অভিযোগ এসএমপি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হলে এসআই মাসুদ রানাসহ তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।