চসিক প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন খোরশেদ আলম সুজন

চসিক প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন খোরশেদ আলম সুজন

 

চসিক প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান,

‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’

এদিকে, প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ার পর খোরশেদ আলম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে ভাঙা রাস্তা মেরামত করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা।

এরপরই আমার নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর পথ অনুসরণ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে জোর প্রচেষ্টা থাকবে।’

মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ব্রিফিংয়ের পর সাংবাদিকরা চসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের উত্তর কাট্টলীস্থ বাসভবনে ভিড় জমালে তাঁদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সুজন বলেন, ‘এমনিতেই জনগণের বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা জানাতে আমি সেবা সংস্থাগুলোতে বারবার গিয়েছি।

ফলে চট্টগ্রাম মহানগরীর জনদুর্ভোগ সম্পর্কে আমার মোটামুটি ভালো ধারণা আছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো কম সময়ের মধ্যে জনদুর্ভোগ নিরসন করতে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের পাঁচ বছর মেয়াদ আগামীকাল শেষ হচ্ছে।

ইতিমধ্যে ২৯ মার্চ চসিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাসহ নির্বাচনী প্রায় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও করোনা ভাইরাসের প্রকোপে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ফলে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী মেয়রের চেয়ারে বসে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবেন নবনিযুক্ত প্রশাসক।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ২৫ (১) ধারায় বলা আছে, সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সরকার পরবর্তী সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যক্রম সম্পাদনের উদ্দেশ্যে একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবে।

একই আইনের ২৫ (২) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন বোধে যথাযথ বলে বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্মসম্পাদনে সহায়তার জন্য নিয়োগ করতে পারবে।

এছাড়া, ২৫ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, প্রশাসক এবং কমিটির সদস্যরা যথাক্রমে মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

খোরশেদ আলম সুজন বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সম্পাদক, সম্পাদকম-লীর সদস্য ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছাত্রজীবনেও তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সুজন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের রাজপথ-কাঁপানো ছাত্রনেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। সে সময় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার জেল খাটেন তিনি।

খোরশেদ আলম সুজন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বেসরকারি ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি এবং ডেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ফজল বুলবুল।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা, ওয়াসার পানিতে ক্ষতিকর জীবাণু, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, আগ্রাবাদ-হালিশহর জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে নগরীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সড়কের উন্নয়ন কাজের অনাকাঙ্খিত দীর্ঘসূত্রিতা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন নাগরিক ভোগান্তির বিরুদ্ধে আগাগোড়া সোচ্চার ছিলেন খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি এসব ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাত করে তা সমাধানের পদক্ষেপ নিতে জোর চেষ্টা চালান এবং নিজস্ব উদ্যোগে এসব ভোগান্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেন।

এরশাদ সরকারের আমলে ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ৬০ বর্গমাইল আয়তনের চট্টগ্রাম পৌরসভাকে ‘চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনে’ উন্নীত করা হয়।

সে সময় প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার মফিজুর রহমান চৌধুরী।

১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন’ নামকরণ করা হয়।

এরশাদ সরকার জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে সে সময় এ সিটির মেয়র নিযুক্ত করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মেয়র নিযুক্ত হন।

নির্বাচনে মেয়র পদে অংশ নিতে মীর নাছির পদত্যাগ করলে ১৯৯৩ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৪ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত চসিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ওমর ফারুক।

১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। পরপর তিনটি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে টানা ১৭ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এরপর ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে মেয়র হন বিএনপির প্রার্থী এম মনজুর আলম।

সর্বশেষ ২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির এম মনজুর আলমকে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আ জ ম নাছির উদ্দীন। খবর বাসস ।

 

আরও পড়তে ক্লিক করুন

 

 

Do NOT follow this link or you will be banned from the site!