চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর

fasi

এক সিএনজি অটোরিকশা চালককে হত্যার দায়ে দুই পেশাদার ছিনতাইকারী মো.সাইফুল ওরফে শহীদ এবং মো.শহীদুল্লাহ ওরফে শহীদকে দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) রাত ১২টা ১ মিনিটে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে দু’জনকে একসঙ্গে ফাঁসি কার্যকর করেন পাঁচ জল্লাদ।

কারা সূত্র জানায়, ১২টার আগে জল্লাদ আবদুল হান্নানের নেতৃত্বে জল্লাদ নাছির, সিরাজ, ইদ্রিছ ও কায়সার যমটুপি পরিয়ে দুই আসামিকে ধারাবাহিকভাবে হাত ধরে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যান। মঞ্চে তোলার পর তাদের গলায় ফাঁসির দড়ি পরানো হয়। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সংকেত পেয়ে কারা জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী তার হাতে থাকা রুমাল মাটিতে ফেলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ জল্লাদ লিভার টেনে ফাঁসি কার্যকরে সহযোগিতা করেন।

২০০৭ সালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে স্ত্রী হত্যার দায়ে দণ্ডিত এক আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। এর দশ বছর পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে এই দুজনের ফাঁসি কার্যকর হলো।

২০০১ সালের ৩১ মে রাতে মিরসরাই উপজেলা সদর থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে তিনজন ফটিকছড়ি যায়।  ফটিকছড়িতে একটি নির্জন স্থানে চালক নাইনকা রবি দাশকে খুন করে ফেলে রেখে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

সিএনজি অটোরিকশা চালক নিখোঁজের ঘটনায় মিরসরাই থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।  মামলা নম্বর ০৮ (০৫) ২০০১।  মরদেহ উদ্ধারের পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।  মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল।

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিন আসামিকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছিল।  হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে সাজা বহাল থাকে।  আপিল বিভাগে একজনের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয় ।

আপিল বিভাগে ফাঁসির দণ্ড বহাল থাকার পর সাইফুল ওরফে শহীদ এবং শহীদুল্লাহ ওরফে শহীদ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে ব্যর্থ হন।  প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার নথি চট্টগ্রাম কারাগারে এসে পৌঁছানোর পর তাদের ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।