চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত, তিন বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত

 

আজ দুপুরে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে।
আজ দুপুরে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে।

 

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত রোববার থেকে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী মাত্রার এই বৃষ্টি হচ্ছে। আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪৪ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।টানা বৃষ্টিতে আজ মঙ্গলবার সকালে বন্দরনগর চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এবং কক্সবাজারকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হয়েছে।

আজ সকালে বৃষ্টিতে নগরের বাকলিয়া, পাথরঘাটা, চাক্তাইয়ের কিছু অংশ, ষোলোশহর দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, কাপাসগোলা, শুলকবহর, হালিশহর এক্সেস সড়ক ও সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানিও ওঠে অনেক জায়গায়। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নগরে যানবাহন সংকট দেখা দেয়। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট।

এ কারণে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার ভাড়া বাড়িয়ে দেন চালকেরা। বৃষ্টির সময় নগরের জিইসি মোড় থেকে আগ্রাবাদ যেতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া গুনতে হয় ১০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এবং কক্সবাজারকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঢাকা, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হয়েছে।