চট্টগ্রামে আসামির সাথে বৈঠক করার অভিযোগে ওসিকে বদলি

POLICE

ফৌজদারি মামলার আসামি যুবলীগ নেতা নুর মোস্তফা টিনুকে গ্রেফতার না করে তার সঙ্গে থানায় বসে বৈঠক করার অভিযোগ পেয়ে নগরীর চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজ আহমেদকে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করেছেন সিএমপি কমিশনার।

০৭ জুলাই, গভীর রাতে আজিজ আহমেদকে বদলির আদেশ দিয়ে অবিলম্বে তাকে নগর পুলিশের বিশেষ শাখায় যোগ দেয়ার নির্দেশ দেন সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার।  একইসঙ্গে কর্ণফুলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো.নূরুল হুদাকে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেয়ার আদেশ দেন সিএমপি কমিশনার।  সোমবার নূরুল হুদা চকবাজার থানায় যোগ দিয়েছেন।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর শিবিরের কাছ থেকে দখলমুক্ত করার পর ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়।  একটি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি এবং আরেকটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কোন ধরনের পদ-পদবিতে না থাকলেও যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত নুর মোস্তফা টিনু।

রনির গ্রুপে চট্টগ্রাম কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা থাকলেও টিনুর গ্রুপে চকবাজার এলাকার বহিরাগতরা সক্রিয় বলে অভিযোগ আছে।  আর ওসি আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে টিনুর পক্ষ নিয়ে বহিরাগতদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার অভিযোগ আছে।

এদের মধ্যে রণি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং টিনু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে গত পাঁচ মাসে চট্টগ্রাম কলেজে রণি ও টিনু গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

গত ৩১ জুলাই সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে টিনুর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বোমাবাজির অভিযোগে ৫ আগস্ট চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মো.আসাদুজ্জামান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিজানুর রহমান নামে আরেক শিক্ষার্থীকে নিয়ে নূরুল আজিম রণির বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় যান টিনু।  এসময় টিনু ও মিজানুর রহমান ওসি আজিজের সামনে বসে মামলার এজাহার তৈরি করছিলেন।  মামলার আসামি টিনু জামিন না নিয়ে থানার ওসির সঙ্গে বৈঠকের ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় রণির অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে নূরুল আজিম রণি প্রথমে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো.আব্দুর রউফকে বিষয়টি জানান।  এরপর তিনি সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার এবং অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্যকে মৌখিকভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে রাতেই সিএমপি কমিশনার ওসি আজিজকে বদলির আদেশ দেন।