চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চায়ের কাপে আলোচনার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দিনক্ষণ চুড়ান্ত হয়নি। এরপরেও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নাম লোকমুখে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। কারা প্রার্থী হতে পারেন; কিংবা প্রার্থী হলে কি অবস্থা হবে তা নিয়ে চায়ের দোকানে চলছে আলোচনার ঝড়। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের প্রার্থীরা ঢাকায় গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এতে বর্তমান এমপির পাশাপাশি কয়েকটি সংসদীয় আসনে দলীয় নেতারাও বিভিন্ন অনুদান ও দলীয় কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় রাখছেন। তবে যারা বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে না থেকেও এখন এমপি প্রার্থী হওয়ার জন্য তদবির করছেন; তারা যেন কোনভাবেই মনোনয়ন না পায় সেই জন্য দলীয় প্রধান ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তৃণমুল নেতাকর্মী । আসছে রমজানে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ভোটারদের কাছে তুলে ধরবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এক্ষেত্রে বহুদূর পিছিয়ে আছে বিএনপির সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা।

একাধিক সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের অধিকাংশ আসনে পুরাতন-নবাগত মিলে একের অধিক প্রার্থীর নাম এ মুহুর্তে আলোচিত হচ্ছে। আবার অনেক আসনে একক প্রার্থীর নামও শুনা যাচ্ছে। এদেরমধ্যে একক প্রার্থী হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) বর্তমান এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সাবেক এমপি মরহুম রফিকুল আনোয়ারের মেয়ে উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা খতিজা আনোয়ার সনি, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, জোটের বর্তমান এমপি নজিবুল হক মাইজভান্ডারি, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) বর্তমান এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা, আমেরিকা প্রবাসী আবদুল কাদের মিয়া, পৌর মেয়র জাফর উল্লাহ টিটু, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) বর্তমান এমপি দিদারুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ইউনুচ গণি চৌধুরী, জোটের বর্তমান এমপি ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) তিন বারের এমপি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ড. হাসান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, জোটের বর্তমান এমপি মঈন উদ্দীন খান বাদল, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) প্রবাসী মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেল, সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, জোটের বর্তমান এমপি জিয়া উদ্দীন আহমেদ (বাবলু), চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) বর্তমান এমপি মো. আফছারুল আমীন, যুবলীগ নেতা মহি উদ্দিন বাচ্চু, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার।

চট্টগ্রাম-১১ (হালিশহর-পতেঙ্গা) বর্তমান এমপি এমএ লতিফ, নগর আওয়ামীলীগ নেতা খোরশেদ আলম সুজন, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) বর্তমান এমপি সামশুল হক চৌধুরী, যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা বদিউল আলম, আওয়ামীলীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আখতারুজ্জামান চৌধুরীর দুইপুত্র বর্তমান এমপি সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাবেদ), আনিসুজ্জামান চৌধুরী রণি, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) বর্তমান এমপি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার আফছার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) বর্তমান এমপি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মুজিবুর রহমান সিআইপি ও আওয়ামীলীগ নেতাখোরশেদআলম।

এদিকে স্ব স্ব এলাকার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সাথে বিভিন্ন ভাবে কথা বলে জানা গেছে যে,বিগত মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের মতো জাতীয় নির্বাচনেও একাধিক দলীয় বিদ্রোহী প্রার্তী আগে থেকে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে নিজেদের কে প্রাথী হিসেবে পরিচয় করতে ব্যানার,পেোষ্টার আর সংবাদ মাধ্যমে প্রচারপত্র বিলি করে কেন্দ্রিয় নেতাদের মন জয় করতে ব্যতিব্যস্ত বলে জানা গেছে।তবে দলের নিবেদীত এবং স্বচ্ছ সাংসদরা এই যাত্রাই বেশ নিরাপদ বলে কেন্দ্রিয় আঃলীগ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
শেষ খবর পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষন দেখার আছে যে,কারা সামনের এই কঠিন নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন নিয়ে প্রিয় প্রতিক নৌকার টিকিট জয় করে শেষ হাসি হাসেন। আবার অনেকেই বলছে,পুরোতন অনেক এমপি সামনের নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন যে পাবেন না তা তারা আগেই জেনে গেছেন।আর এই তালিকায় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সহ প্রবীন এমপির নাম বেশ শুনা যাচ্ছে।