কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে গৃহকর্মী বানিয়ে নির্যাতন, দম্পতি আটক

 

কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে গৃহকর্মী বানিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে এক  দম্পতিকে আটক করেছে র‍্যাব -৭ ।

এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

জানা গেছে, চার ছেলে সন্তানের পর ফেনী জেলার সদর থানাধীন রামপুরের জামাল উদ্দীন(৪৫) ও নাজমা বেগম(৪০) দম্পতির মনে কন্যা সন্তানের বাসনা ছিল।

অন্যদিকে স্বামী পরিত্যক্ত অসহায় এক মা তার কন্যা সন্তানকে নিয়ে সমস্যায় পড়ে যান।

বিষয়টি জামাল-নাজমা দম্পতির কানে এলে আনুমানিক ৫ বছর পূর্বে তারা অসহায় এক মায়ের কাছ থেকে একটি কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে আসে।

পরবর্তী সময়ে তারা দত্তক মেয়েটির সাথে বাসার কাজের মেয়ের মতো আচরণ শুরু করে।

শিশুটিকে থাকতে দেয়া হতো বারান্দার ছোট্ট অপরিচ্ছন্ন খুপরি ঘরে।

তাকে দিয়ে ঘর মোছা,কাপড় ধোয়া,আসবাবপত্র পরিষ্কার করানো ইত্যাদি সব কাজ করানো হতো।

কোন কাজে সামান্য ভুল হলেই নেমে আসতো নির্মম নির্যাতন।

নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় কাজে ভুলের জন্য জামাল-নাজমা দম্পতি গত ০৮ জুলাই ২০২০খ্রিঃ দিবাগত রাতেও

ওই এগারো বছরের দত্তক মেয়ে শিশুটির উপর নির্মম নির্যাতন চালায়।

এতে মেয়েশিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়ে শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান উক্ত দম্পতি।

এই অমানবিক বিষয়টি র‍্যাব -৭ এর নজরে এলে ০৯জুলাই ২০২০ খ্রিঃ গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

পরবর্তীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মেয়ে শিশুটিকে নির্মম নির্যাতনের জন্য পাষণ্ড পালক বাবা-মা জামাল উদ্দীন(৪৫) এবং নাজমা বেগম(৪০)  দম্পতিকে আটক করে র‍্যাব -৭।

এবং শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়ে উক্ত দম্পতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে জামাল-নাজমা দম্পতি মেয়ে শিশুটির উপর নিয়মিত নির্যাতনের কথা স্বীকার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে ফেনী সদর থানায় ২০১৩ সালের শিশু আইন মোতাবেক মামলা দায়ের করা হয়।

 

আরও পড়ুন