আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে

সমুদ্রবন্দর সমূহে ৩ নম্বর

 

সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে দক্ষিণের জেলা গুলোতে আজ ভোর থেকে ধমকা হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আম্ফান্ অধিক শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসার খবরে আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই আশ্রয়কেন্দ্র রাখা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে হাতধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাতে আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও রোজদারদের জন্য সেহেরির ব্যবস্থা করা হয়। ঝুকিপূর্ণ এলাকার বাকিদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্যপ্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মাইকিং করে জনসাধারণকে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে।

শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জ, রামপাল ও মোংলা উপজেলার আশ্রয় কেন্দ্রে গতকাল বিকাল থেকে আতংকিত মানুষেরা তাদের গবাদী পশু ও হাঁস মুরগী নিয়ে জেলার ৯৯৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে আসতে শুরু করে।

পূর্বের ৩৪৫টি স্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬৫২টি আশ্রয় কেন্দ্র বাড়িয়ে ৯৯৭টি করা হয়েছে। ৬ লাখ ধারণ ক্ষমতা বিশিষ্ট এসব আশ্রয় কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কমপক্ষে ৩ লাখ মানুষকে নিরাপদে রাখা যাবে। এদিকে সরাকার বাগেরহাট জেলার জন্য ২০০ টন চাল, নগত ৩ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকার শিশু খাদ্যে, গো-খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়েছে।

দূর্যোগ মোকাবেলায় জেলায়৮৫টি মেডিকেল টিমসহ ১১ হাজার ৭০৮ জন স্বেচ্ছাসেক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, সুন্দরবনের ঝঁকিপূনণ ৭টি স্টেশন অফিস ও টহল ফাঁড়ির সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাশ^বর্তি বন অফিসে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব অফিস গুলো হচ্ছে কচিকালী, শ্যালা, তাম্বুলবুনিয়া, জোংলা, জাপসী, চরখালী, শুয়ারখালী ফরেস্ট অফিস। একই সাথে সুন্দরবনে অবস্থানরত সকল কর্মচারীদের সর্তক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ বছর পাশ নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়া ২ হাজার জেলে মধ্যে ২০০ জেলে সময়মত ফিরতে না পারায় তাদের বনবিভাগের বিভিন্ন অফিসে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান জানান, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারির পর থেকেই বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব এলার্ট থ্রি জারি করে বন্দরের জেটি ও বহিনোঙ্গরে অবস্থানরত ১১টি বিদেশী জাহাজের পণ্য খালাস ও বোঝাই কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নৌযানগুলো নিরাপদে রাখার পাশাপাশি পশুর চ্যানেলের সকল জাহাজকে বন্দরের মূল পশুর চ্যানেল থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিরাপদে থাকার জন্য বলা হয়েছে। বন্দরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তি উদ্ধার তৎপরতা চালাতে বন্দর জেটিতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ অবস্থান নিয়েছে।ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক জানান, এবার করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে যাওয়ায় জেলার আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই রাখা হচেছ। আজ দুপুর ১২ টা পযন্ত আশ্রয় কেন্দ্রে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ঝুকিপূর্ণ এলাকার বাকিদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

খবর বাসস।