অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ১৪ জন গ্রেফতার, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

গত ২৭/০৭/২০১৫ খ্রিঃ তারিখ বিকাল ১৭.০০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের এসআই রাজেশ বড়ূয়া ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ পাঁচলাইশ থানাধীন বেবী সুপার মার্কেট সংলগ্ন আদর্শপাড়া সালাম ভিলার ২য় তলা অভিযান চালিয়ে ০৪ পতিতাসহ ১৪ জন’কে গ্রেফতার করে। এ সময় সেখানে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য হওয়া ভিকটিম আখিঁ আক্তার’কে উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, আঁখি আক্তার (১৮), পিতা-জাকির মোল্লা, মাতা-আমেনা বেগম, সাং-ফিঙ্গরিয়া, মোল্লা বাড়ী, থানা-কচুয়া, জেলা-বাগের হাট, বর্তমানে-বড়পুল, আর্টিলারী সেন্টারের উত্তর গেইট, ফুফু শিরিন বেগম এর বাসা, থানা-হালিশহর, চট্টগ্রাম একজন গার্মেন্টস কর্মী। চট্টগ্রাম ইপিজেডে তিনি চাকুরী করেন।

গত ২৫/০৬/২০১৫ খ্রিঃ তারিখ ইপিজেড মোড় হতে পূর্ব পরিচিত সিএনজি চালক সাগর বাসায় নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে আখিঁ আক্তারকে বর্ণিত ঘটনার স্থলে নিয়ে যায় এবং শাহাবুদ্দিন প্রঃ বাচ্চু ও তার স্ত্রী শেলি আক্তারের নিকট হস্তান্তর করে। তাদের সহযোগী মোঃ সেলিম, মোঃ ওসমান ও মিনহাজ উদ্দিন এর সহযোগিতায় আখিঁ আক্তারকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেন।

ভিকটিম আখিঁ আক্তারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত আসামী ০১) মোঃ শাহাবুদ্দিন প্রঃ বাচ্চু(৪৫), পিতা-মৃত দুদু মিয়া, মাতা-মহিমা বেগম, সাং-বাগপুর বেপারী বাড়ী, হাসু পাটোয়ারীর স্কুলের পার্শ্বে, থানা-ফরিদগঞ্জ, জেলা-চাঁদপুর, ০২) শেলি আক্তার(৩৪),স্বামী-শাহাবুদ্দিন, পিতা-নুর আহমদ, মাতা-ফয়েজুন্নেছা, সাং-গাড়ীটানা, নুর আহমদ এর বাড়ী, থানা-মানিকছড়ি, জেলা-খাগড়াছড়ি, ০৩) মোঃ সেলিম(৪৮), পিতা-মৃত সেকান্দর মাস্টার, মাতা-মৃতা নুরজাহান বেগম, সাং-শিলখালী, ছরাপাড়া, সেকান্দার মাস্টার বাড়ী, থানা-পেকুয়া, জেলা-কক্সবাজার, ০৪) মোঃ ওসমান(৩৪), পিতা-মৃত নাজিম উদ্দিন, মাতা-লায়লা বেগম, সাং-পশ্চিম পটিয়া, শাহ মিরপুর, বিএ সোলাইমান এর বাড়ী, থানা-কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম, ০৫) মিনহাজ উদ্দিন এনাম(২৯), পিতা-জসীম উদ্দিন, মাতা-জাহানারা বেগম, সাং-ধর্মপুর(চৌধুরী বাড়ী), নেয়াজ উদ্দিন এর বাড়ীর পার্শ্বে, থানা-সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম, সর্ব বর্তমানে-০২নং গেইট, বেবী সুপার মার্কেট সংলগ্ন, সালাম ভিলা, আর্দশপাড়া, ০৪নং গলি, থানা-পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম’গণ ও পলাতক আসামী ০৬) সাগর(২২), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়।

অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে গ্রেফতারকৃত ০১) মোঃ আনোয়ার হোসেন(৪২), পিতা-খোরশেদ আলম, মাতা-মৃতা মোমেনা বেগম, সাং-মুন্সীপুকুর পাড়, মুসলিম খানের ভাড়াটিয়া, থানা-পাঁচলাইশ, জেলা-চট্টগ্রাম, ০২) বিজয় বড়ুয়া(২৪), পিতা-মৃত তেজেন্দ্র লাল বড়ুয়া, মাতা-তরুবালা বড়ুয়া, সাং-মনছুর বাজার, থানা-পটিয়া, জেলা-চট্টগ্রাম, ০৩) মোঃ ইকবাল হোসেন(২৮), পিতা-মৃত আনোয়ার হোসেন, মাতা-রিজিয়া বেগম, সাং-এলাইছ (মিয়াজী বাড়ী), থানা-লাকসাম, জেলা-কুমিল্লা, ০৪) মোঃ রবিউল খাঁ(২৪), পিতা মোঃ আলমগীর খাঁ, মাতা-আঁখি বেগম, সাং-নজিবপুর(রাসেল খাঁদের পার্শ্বে), থানা-কলাপাড়া, জেলা-পটুয়াখালী, ০৫) জোসনা বেগম(২৫), পিতা-মৃত মকবুল মিয়া, মাতা-জরিনা বেগম, সাং-তাইন্মম বাজার, দক্ষিণ আচলং, থানা-মাটিরাঙ্গা, জেলা-খাগড়াছড়ি, ০৬) আসনুর আক্তার সাথী(১৯), পিতা-আব্দুল মান্নান, মাতা-মৃত আশুরা বেগম, সাং-শিক্ষাগ্রাম, চর আলেকজান্ডার, মিয়া বাড়ী, থানা-রামগতি, জেলা-নোয়াখালী, ০৭) রোকসানা বেগম(২২), পিতা-জলিল আহমেদ, মাতা-মৃতা বীনা বেগম, সাং-বায়তুশ শরফ রোড, আলাউদ্দিনের পাঁচ তলা বিল্ডিং এর পার্শ্বে, থানা ও জেলা-কক্সবাজার, ০৮) পারভীন আক্তার(১৬), পিতা-কবির আহমদ, সাং-আমবাগান, রেলগেইট, টাইগারপাস, থানা-খুলশী, জেলা-চট্টগ্রাম’দেরকে মহানগর অধ্যাদেশে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

অপর গ্রেফতারকৃত আসামী শারমিন (১৮), পিতা- শুক্কুর আলী, সাং- আজিজ নগর, থানা-লামা, জেলা- বান্দরবান’কে পাহাড়তলী থানার মামলা নং-১৪(৯)১৪ ধারা-৩৪২/৩৮৫ দঃবিঃ মামলায় চালান দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী শাহাবুদ্দিন তার স্ত্রী শেলি এবং শারমিন একটি প্রতারক চক্রের সদস্য। শারমিন ও শেলি ধণ্যাঢ্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সাথে মোবাইল যোগে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে এবং এক পর্যায়ে তাদের বাসায় নিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। অনেকে মানসম্মানের ভয়ে তাদের হাতে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুক্ত হয়।

গত ২০১৪ খ্রি সনের সেপ্টেম্বর মাসে টেরি বাজারের এক ব্যবসায়ীকে পাহাড়তলী থানা এলাকায় নিয়ে আটক করে ১০,০০,০০০/- (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের গোচরিভূত হলে টাকা দেওয়ার কথা বলে প্রতারক চক্রের ০২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। শাহাবুদ্দিন, শারমিন ও শেলি তখন পালিয়ে যায়।

সুত্র- সিএমপি প্রেস বিজ্ঞপ্তি